পোস্টগুলি

2023 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সংস্কৃতি সংবাদঃ নাট্যকার ফিরোজ আলমকে নাট্যজন সম্মাননা

ছবি
আতিকুর রহমান মিরাজ| |শিল্প সংস্কৃতিঋদ্ধ সৃজনশীল মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে  অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় শিল্প সংস্কৃতি পৌঁছে যাবে শহর,নগর ও গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে।জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতি বছর সাংস্কৃতির বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৫ জন গুণী শিল্পীকে সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করেন।তারই অংশ হিসেবে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩ পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমীর মিলনায়তনে ২০১৮ থেকে ২০২২ এর ২৫ জন গুণী শিল্পীকে সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করে পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমি।   নাট্যকলায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য  নির্বাচিত গুনীজন হিসেবে ২০২০ এর সম্মাননা পুরস্কার গ্রহন করেছেন কলাপাড়া উপজেলার গর্ব, আলোর দিশারী,সংস্কৃতি চর্চার বাতিঘর প্রবীণ কবি ও নাট্যকার ফিরোজ আলম।   অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলার সম্মানিত জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ নূর কুতুবুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য দুর্যোগ ব্যবস্হাপনা মন্ত্রণালয়ের  সাবেক সচিব ধীরাজ মালাকার,বীর মুক্তিযোদ্...

এসো বাংলাদেশকে জানি || ড. মুহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী

ছবি
প্রিয় বন্ধুরা আজ আমরা আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ সম্পর্কে জানবো। তোমরা সবাই জানো আমাদের দেশের নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। এ দেশের রাজধানী ঢাকা। বাংলাদেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার। বাংলাদেশের পশ্চিম, উত্তর ও পূর্ব দিকে ভারত, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার অবস্থিত। আমাদের মাতৃভূমির স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ ও বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর। এদেশের প্রধান ভাষা বাংলা এবং মুদ্রার নাম টাকা। বন্ধুরা, তোমরা জানো এদেশের রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস।  গঙ্গাঋদ্ধি বা গঙ্গরিডই বাঙালিজনের প্রথম শক্তিশালী রাষ্ট্র। প্রায়  দুই হাজার তিনশত (২৩০০) বছর আগের ইতিহাস গ্রিক-রোমান লেখক ও ঐতিহাসিকদের বর্ণনা বিশ্লেষণ করে অধিকাংশ পন্তিতই মত পোষণ করেন যে, গঙ্গাঋদ্ধি বা গঙ্গারিডই বাঙালির প্রাথমিক কালের পরাক্রম রাষ্ট্র। প্রাচীনকালে বাংলায় বঙ্গ নামে একটি জনপদ ছিল। কালক্রমে এ অঞ্চল বাংলা নামে পরিচিতি লাভ করে। আজকের বাংলাদেশের ভিন্ন ভিন্ন অংশ ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত ছিল। ঐতরেয় অরণ্যক নামক গ্রন্থে সর্বপ্রথম ‘বঙ্গ’ নামের উল্লেখ দেখা যায়। বঙ্গ বা বাংলা নামের উৎপত্তি নিয়ে যথেষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে। বৈদিক যুগে রচিত বিভি...

এসো মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনি|| কালাম মাহমুদ

ছবি
  নরসিংদী জেলার শিশুকিশোর মুখপত্র হাওয়াই মিঠাই কে দেয়া বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা, লেখক গবেষক প্রফেসর কালাম মাহমুদ এর বিশেষ সাক্ষাৎকার "এসো মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনি " সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন হাওয়াই মিঠাই সম্পাদক এম. মাহামুদুল হাসান। হা.মিঃ স্যার, আস্সালামুআলাইকুম কেমন আছেন? কালাম মাহমুদঃ পরম করুণাময়ের দয়ায় ভালো আছি। ধন্যবাদ। হা.মিঃ আপনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এ ছাড়াও আপনাকে আমরা অনেকভাবে চিনি। অনেকগুলো অত্যন্ত সম্মানের পদ ও পদবী আপনার রয়েছে। এর মধ্যে কোন্ পরিচয়টা দিতে আপনি সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন? কালাম মাহমুদঃ ধন্যবাদ প্রশ্নটা সহজ নয়। সবার জীবনেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িয়ে থাকে। সেখান থেকে একটি নির্বাচন করা সত্যি কঠিন। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। এটা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন। একাত্তর সনে ষোল বছর বয়সে ভারত থেকে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ৩ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। তারপর স্বাধীন দেশে আমার শিক্ষা ও কর্ম জীবন। লেখক ও গবেষক হিসেবে আমার এগারোটি মৌলিক গ্রন্থ দেশ-বিদেশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২০১৪ সনে স্বর্ণপদক ও শি...

ফজলুল হক মিলনের ছড়াঃ বাবা বিশাল ছাতা

ছবি
ফুলের সাথে ভাব আছে খুব ফুল যে আমার প্রিয়,  তোকে দিলাম ফাইজা সোনা লাল টুকটুক জবা, বর্ষাকালে কদম ফুলের সুঘ্রাণ তুমি নিও সাওয়াদ সোনা বড় হলে, হবে আলোর প্রভা।  ঢোলকলমী, শাপলা শালুক, বেলী বকুল জুঁই  অলস দুপুর, ক্লান্ত বিকেল সব নিয়ে নিস তোরা  নক্সীকাথায় ছবি আঁকা, রঙিন সূতো, সুই,  সবই তোদের, আমার জন্য শুধুই টাট্টু ঘোড়া। তোদের লাগি খোলা আকাশ, তোদের উড়ার পাখি, ও বাছাধন অবাক হলি, বাবা বিশাল ছাতা, বৃষ্টিভেজা মেঘলা দিনে বই গুছিয়ে রাখি আমি বলি তোরাই আমার নতুন ছড়ার পাতা। ফজলুল হক মিলন (বিশিষ্ট ছড়াকার , সাংবাদিক, কবি)

বাংলা কবিতা: ইতিহাসের বাংলাদেশ

ছবি
  ফিজা ওমেরা স্বাধীনতার সুপ্ত বীজ প্রতিক্ষিত ৪৭। দ্বি-জাতি তত্ত্বে গঠিত ভারত ও পাক, দিয়ে গেল সাম্প্রদায়িক চেতনার ছাপ। ঠিক তখনই পেলো বাঙালি, পূর্ব পাকিস্তান নামক ভূখন্ড। কিন্তু কে জানিত পাকিদের ষড়যন্ত্র? তবু সব মেনে নিয়ে করিল বাঙালি সংযম। পাকরা তাও ছিনিতে চাহিল মোদের বচন। রাজপথ রাঙিল কত তাজা প্রাণে, বায়ান্ন'র ময়দানে। "সেই অনুপ্রেরণায়, যদি না হতো ৫৪, ৫৬ না হতো ৬২, ৬৯ তাহলে পেতামনা হয়তো, হৃদয়ের ৭১। যদি না পেতাম প্রানের মুজিব, না পেতাম ৭ই মার্চ তাহলে কি থাকত আমার, প্রানের স্বাধীনতা আজ। স্বাধীন দেশে স্বাধীন অষায়, গল্প করি কত। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলে, ঘুরি ইচ্ছেমত। কর্ণফুলি টানেল দিয়ে নদীর নিচে ঘুরি। বঙ্গবন্ধু স্যার্টলাইটে, আকাশেতে উড়ি।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার অজানা গল্প

ছবি
আমাদের গ্রামের নাম পীরপুর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত একটি গ্রাম। সেই গ্রামের একজন সূর্য সন্তানের গল্প বলছি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুরুর দিকে আমাদের গ্রামের সব তরুণদের মতো তিনিও গ্রাম পাহারা দিতেন। গ্রামে তৎকালীন সময়ে বাম রাজনীতির ঘাঁটি ছিল। সেখানে গোপনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হতো। যা পাকিস্তান সরকার জানতো। ফলে গ্রামে প্রায় সময়ই পাকিস্তানিরা হামলা করতো এবং সাধারন মানুষকে নির্যাতন করত। এসব দেখে সেই মুক্তিসেনা শুধু গ্রাম পাহারায়ই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেন নি। চেয়েছিলেন লড়াই করে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে। এছাড়াও একটি বিষয় তিনি সর্বদা ভাবতেন। তিনি মনে করতেন তাঁর চেয়ে যারা দুর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারীরা যদি যুদ্ধ করতে পারে, তাহলে সে কেন পারবে না? তিনি ও সংকল্প করলেন যুদ্ধে যাবেন। তারপর তিনি তাঁর ভাবনার কথা তাঁর বাবা কে জানান, বাবা রাজি হলেন। বাবার সম্মতিক্রমে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ১৯৭১ সালের ১৪ জুন তিনি ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ওখানে গিয়ে তিনি সর্বপ্রথম বামদের একটি ঘাঁটি (গ্রাফস হোস্টেল ) আগরতলায় যান। সেখান থেকে যান ছাত্র ইউনিয়ন ক্যাম্প বরদোয়ালি। বরদোয়ালি থেকে তখনকার অগ্নিকন্যা বেগম মতিয়া চৌধু...

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা: জাতির পিতা

ছবি
দেখিনি তোমাকে আমি শুনেছি তোমার কথা হে জাতির পিতা। তুমি ছিলে বাংলার কোটি কোটি মানুষের রক্তে রাঙানো তাজা ফুল, তুমি ছিলে ছেলে হারা স্বজন হারা হাজারো মায়ের কান্না তাদের ছিল না কোনো কোল। বহুদিন থেকে রক্ত বিলিয়ে ছিনিয়ে আনলে তুমি, মহান স্বাধীনতা হে জাতির পিতা। অনন্যা রানী দাস ৬ষ্ঠ শ্রেণি 

রেজামারার লোমহর্ষক সত্য ঘটনা

ছবি
সালটা ১৯৭১। বাংলাদেশ অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তখন পুরোদমে যুদ্ধ চলছে, মুক্তিযুদ্ধ। যে যুদ্ধে প্রাণ ঝড়িয়েছেন ত্রিশ লাখ মানুষ, সম্ভ্রম হারিয়েছেন লক্ষাধিক মা-বোন। হ্যাঁ, আমি বাংলাদেশের সেই স্বাধীনতা সংগ্রামের কথাই বলছি। গল্পটা তাহলে শুরু থেকেই বলি, বাঙালি জাতি সাক্ষী হচ্ছে এক রক্তক্ষয়ী মহাপ্রলয়ের। দেশের প্রতিটি জায়গায় তখন মুক্তিবাহিনীর বিস্তৃতি। পাক হানাদারদের ক্ষমতা নিশ্চিহ্ন হয়েছে, অনিশ্চিত হয়েছে তাদের জীবন। একই অবস্থা তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকারদেরও। একবার মুক্তিবাহিনীর হাতে পড়লে আর রক্ষা নেই। মৃত্যু নিশ্চিত মুক্তিযোদ্ধাদের হাতেই। মুক্তিযুদ্ধের একদম শেষ পর্যায়ে দেশ স্বাধীনের দু-তিন দিন আগে পুরো দেশে প্রচুর পরিমাণে দেশদ্রোহী রাজাকারদের হত্যা করা হয়েছে। সম্ভবত, জয় নিশ্চিত জেনেই বাঙালিরা বুকে বল সঞ্চয় করে অস্ত্র হাতে কঠোরভাবে দমন করতে পেরেছিল এই পাষণ্ড দেশদ্রোহীদের। নরসিংদী জেলার অন্তর্গত বেলাব উপজেলা। বেলাব উপজেলার অনেক জায়গায় মুক্তিযুদ্ধের বেশ কিছু ধ্বংসাবশেষের চিহ্ন এখনও বিদ্যমান। এসকল ধ্বংসাবশেষ নিঃসন্দেহে প্রমাণ করে যে, মুক্তিযুদ্ধ ঠিক কতটা ভয়াবহ এবং লোমহর্ষক ছিল। এমনই একটি ...

বাংলা ছড়া : তানজিলা কাওছার

ছবি
শীতের আগমন সেজেছিল প্রকৃতি বেশ হেমন্ত হলো শেষ, শীত হলো শুরু মন হলো উড়ু উড়ু , কনকনে হাওয়ায় হৃদয় মাতায়। গাছের পাতা ঝরে পাখির দল উড়ে চলে, মানুষ আগুন পোহায় শীতের বেলায়।

আবু হেনা তিমুর ছড়া: গাঁয়ের অখ্যাতি

ছবি
তোমাদের এই গ্রামে নেই ভাল চা, লাল চায়ে নুন দেয় গুলায় যে গা। নুন ছাড়া চা হয় না—তোমাদের আইন, এটা কোনো চা, না কি গরম স্যালাইন? দুধ চায়ে দেয় তারা ভাতেরই ফ্যান, দুধ চা না বলে ফ্যান-চা বল না ক্যান? লিকার হালকা কেন—জিগাইলে কেউ চা দোকানী তেড়ে আসে করে ঘেউ ঘেউ। টাকা দিয়ে চা খামু, যেমনটা চাই তেমন দিবা না কেন শালীর জামাই? তোমাদের ভাত নাই, পাতিল ডাগর— কোন দুঃখে নাম দিছ বাংলানগর? ছড়াকারঃ আবু হেনা তিমু অডিওভিজুয়াল এক্সপার্ট অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি এমপাওয়ারমেন্ট

গল্প : বাকিটা রহস্য

ছবি
বুক থেকে বিরাট একটা পাথর নেমে গেল। স্কুল ছুটি হয়ে গেছে। পুরো ডিসেম্বর কেবল মজা আর মজা। আমার নাম লিখন, ক্লাস সেভেনে পড়ি, মানে পড়তাম, এখন এইটে। স্কুল এবং কোচিংকে একমাসের ছুটি দিয়ে বাসায় ফিরছি। পেছন থেকে দৌড়ে এসে কে যেন কাঁধে ধরল। রাফাত, রোগা-পাতলা, চোখে চশমা। ওকে আমার ঠিক আমার বয়সী লাগে না। কথাবার্তা খুব গম্ভীর প্রকৃতির, তবে প্রচন্ড পড়ুয়া ছেলে। বলতে গেলে তাকে আমার কাছে ছোটখাটো সাইন্টিস্ট মনে হয়। ভুল বললাম, শুধু আমার না। আমরা সবাই ওকে সাইন্টিস্ট বলে ডাকি । সারাদিনই কোন না কোন এক্সপেরিমেন্ট নিয়ে পড়ে থাকে। বাসার ছাদে একটা ছোট্ট ঘর আছে রাফাতের। সেখানে সে ছোটখাট একটা ল্যাবরেটরি তৈরি করেছে।দেখলে মনে হয় অনেক ব্যয়বহুল একটা গবেষণাগার। কিন্তু রাফাত কথা, "এটা সম্পূর্ণভাবে তৈরি করতে আরও কিছু কাজ করতে হবে। কী কাজ জানতে চাইলে "রাফাত ভ্রু কুচক্রে মাথা নাড়তে নাড়তে -- "আছে দোস্ত, কাজ আছে, সময় হলেই জানবি।" সে কোন সময়ের কথা বোঝাতে চায় আমরা তা বুঝতে পারি না। অবশ্য তা নিয়ে মাথাও ঘামাই না। রাফাতের সব কথাই ভারী রহস্যময়। আমরা পাশাপাশি হাঁটছি। "দোস্ত, তোর সাথে কিছু কথা ছিলো রে...

ভ্রমন কাহিনী: পদ্মা সেতুতে এক রাত

ছবি
  ৩ মে, ২০২৩, প্রথম পার্বিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আমাদের পরীক্ষা সকাল ৯ টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২ টা বাজে শেষ হয়। বাসায় আসতে প্রায় ১টা বেজে গেছে। বাসায় এসে গোসল করে খাওয়ার সময় শুনতে পেলাম আমরা নাকি আজকে ঘুরতে যাবে। আমরা মাঝে মধ্যেই ঘুরতে যাই। কিন্তু হঠাৎ পরীক্ষার মধ্যে কেন ঘুরতে যাবো তা বুঝতে পারলাম না। আমার পরবর্তী পরীক্ষা ছিল ৭ তারিখ অর্থাৎ রবিবার তাই আমার কোন সমস্যা ছিল না। দুপুরের খাবার খেয়ে একটু বিশ্রাম নিলাম। বিকেলে বাবা বাসায় আসল। জানতে পারলাম আজকে বাবু অঙ্কেলের- জন্মদিন। আব্বু বলল তাই আজকে আমরা পদ্মা সেতুতে ঘুরতে যাবো। আমি শুনে খুবই খুশি হলাম। কারণ আমার খুব ইচ্ছা ছিল পদ্মা সেতুতে ঘুরতে যাওয়ার। পদ্মা সেতু হলো আমাদের দেশের মেগাপ্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম। আমি, আম্মু, আব্বু ,ছোট বোন মম, মেজ ফুপিও মেজ মামা আমরা সকলে একসাথে রাত্র ৯ টার সময় বের হলাম। আমাদের সকলের একসাথে যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া করা হয়েছে। আমাদের সাথে বাবু অঙ্কেলের পরিবার, রুবেল অঙ্কেল ও সামি ভাইয়া সহ আরও ৩ (তিন)  জন ছিলাম আমরা সবাই রাত ৯ টায় রওনা হলাম। আমরা খুব আনন্দ উল্লাস নিয়ে ঢাকায় ঢুকলাম। কিন্তু যাত্রাবাড়...

এমদাদুল ইসলাম খোকনের ছড়া

ছবি
  (১) গাঁয়ের ছবি আঁকতে বলো আমায় তুমি গাঁ গেরামের ছবি  কওতো দেখি আমিকি আর তোমার মত কবি? আঁকতে গেলে হাত চলে না লিখতে গেলে কলম ফুল আঁকিলে যায় দেখা যায় জাতি সাপের ছলম। আমায় নিয়ে ঠাট্টা করা তোমার কি ভাই সাজে আমি তো আর ভুল ধরি না তোমার কোন কাজে? আমরা হলাম খেটে খাওয়া বনেদি জাত তোমরা মাচার   লাউ নষ্ট  করে দুষ্ট কটা ভোমরা।। গাঁয়ের ছবি মায়ের ছবি আমায় বল আঁকতে কানধরেছি আঁকবো নাতো দেহে  পরান থাকতে। (২) চোখ বুঝিলে বাবা তোমায় আধাঁর রাতে জোনাক জ্বলে একলা একা খোকন চলে - আম কাঠালের বনে, বাবা তুমি কোথায় গেলে একলা একা আমায় ফেলে এখন পরে মনে।। সোনা রুপারসেইকারুকাজ সেই সোনালী দিনগুলি আজ হারিয়ে গেছে কবে - তোমার স্মৃতি ধারণ করি খেড়োখাতার লেখা পড়ি আমরা যারা সবে। পা ফেলানোর জায়গা তো নয় মাথার পরে কঠিন সময় বুকের ভেতর ছাই - অতীত ডেকে বলছে আমায় চোখ বুঝিলে বাবা তোমায় ঠিকই দেখতে পাই।। বাবা তুমি স্বপ্ন গাঁথা সবুজ গাছের ঝরা পাতা তোমায় নিয়ে ভাবি - তুমি ছিলে জীবন জুড়ে নাই বলেই হৃদয় পুড়ে বদ্ধ ঘরের চাবি।। জীবন গাঙে নায়ের মাঝি ...

নরসিংদী জেলার সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা ও সীমাবদ্ধতা

ছবি
  সাহিত্যের গতিপথ ত্রিভঙ্গিম, সত্য,সুন্দর ও শৈল্পিক। নন্দন মাঠে অনুভূতির ভাষাগত বপনই সাহিত্য।প্রকৃতার্থে সাহিত্য হলো জীবনাচারের ভাষাগত শৈল্পিক  প্রকাশ। ভাষা সৃষ্টির কাল থেকেই মানুষ ভাষাগত অনুভূতি প্রকাশের উপায় খুঁজছে আর সময়ান্তরে তা হয়েছে বিচিত্রমাত্রিক। মানুষের চিন্তাজগত বিচিত্র বলে এর ভাষাগত প্রকাশও বিচিত্র। হাসি-কান্না,সুখ-দু:খ এসব অনুভবের আক্ষরিক আঁচড়েই নান্দনিক হয় সাহিত্যের  সোপান। কথা আর সাহিত্যের মধ্যে পার্থক্য হলো অলঙ্কার আর কাঠামো। যাকে আমরা সাহিত্য বলবো তার নর্ম অনুযায়ী ভাষাগত শরীর ও অলঙ্কার থাকা চাই। অনুভূতির জগত অনেকটা অদৃশ্যমান হলেও সাহিত্য দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান দুই ভঙ্গিমায় হাঁটাচলা করে। প্রকৃতার্থে সাহিত্যের কোনো শিক্ষক বা গুরুজি নেই। কেউ কেউ বলে থাকেন,আছে,লাগে।আমার দৃষ্টিতে এসব লাগেনা।যদি তেমন ভাবে প্রয়োজন হতো তাহলে লালন,রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল সাহিত্য চর্চা করতে পারতেন না। কিছুটা ভাষাজ্ঞান থাকার পরে পরিবেশ,পরিস্হিতি,স্বগত ভাবনার সূক্ষ্ম অনুভূতি গুলো অনুরণন পেলে চেতনার চাতালে হেসে ওঠে সাহিত্যের ফল্গুধারা। আবহমান কাল থেকে আমাদের নরসিংদীর নন্দন হলো তাঁতকাপড়,তরি...

শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও হাসের প্যাঁক প্যাঁকের দৌড়াদৌড়ি

ছবি
প্রথমত বলে রাখি প্যাঁক প্যাঁক প্রশিক্ষণটি নতুন কারিকুলামের অংশ নয়। এটা ম্যাথ অলিম্পিয়াড প্রশিক্ষণের একটি আইডিয়া। এর মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দশমিক ভগ্নাংশের ধারণা দেওয়া হয়। (২০২০ ও ২০২১ সালের কথা) প্যাঁক প্যাঁকের দৌড়াদৌড়ি নিয়ে ইদানীং  ফেসবুকে কেউ কেউ ট্রল করছেন। আমি জানিনা বিষয়টি তাঁরা জেনে নাকি না জেনে, না বুঝে এমনটি করছেন। কেউ কেউ লিখেছেন প্রশিক্ষণের নামে  প্রাথমিক শিক্ষকদের এতোটা নিচে নামানো ঠিক হয়নি। কেউ কেউ লিখেছেন প্রশিক্ষণে Ice breaking ( জড়তা দূর করার জন্য বিভিন্ন কৌশল)  প্রয়োজন আছে তাই বলে হাঁসের মতো প্যাঁক প্যাঁক করতে হবে। আবার  কেউ লিখেছেন প্রশিক্ষণে মজা করার মতো আরও কত কিছু  ছিল! আর এটি দিয়ে শিক্ষার্থীরাই বা কী শিখবে? প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ ছাড়া অন্যান্য  শিক্ষকগণের বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা না থাকা হেতু কোন কমেন্ট করতে না পারায় বিব্রতবোধ করেছেন । আবার অনেকে আমার কাছ থেকে  বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। তাহলে আসুন জেনে নেই 'প্যাঁক প্যাঁকের দৌড়াদৌড়ি'   আইডিয়াটা আসলে কী!  আগে একটি গল্প শুন...

নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা ও আমাদের ভঙ্গুর অবকাঠামো

ছবি
সুমনা আক্তার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা বেসরকারী একটি এনজিওতে চাকুরী করেন। বাবার চাকুরীর সুবাদে এ বছর তাকে স্কুল পরিবর্তন করতে হয়েছে। বছরের মাঝামাঝি সে ঢাকা শহরের একটি নামি বেসরকারী স্কুলে ভর্তি হয়েছে। সেখানে সরকারী ৩ (তিন) টি বইয়ের পাশাপাশি পড়তে হচ্ছে সাধারন জ্ঞান, কম্পিউটার, অংকন, পরিবেশ পরিচিতি, বিজ্ঞান এবং ধর্ম। এর আগে যে স্কুলে পড়তো সেখানেও এই বিষয়গুলোর কয়েকটি বিষয় সে পড়েছে। তবে বাধ সাধলো সিলেবাসে। আগের বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত বইগুলোতে যে অধ্যায়গুলো ছিল বর্তমানে সে অধ্যায়গুলো নেই। বইগুলোও অন্য প্রকাশনীর। এখানে তাকে নতুন বই কিনতে হয়েছে। উপরোক্ত বইগুলো ছাড়াও বাংলা ও ইংরেজি ২য় পত্র এবং গাইডের নামে এক প্রকাশনীর বই কিনতে বলা হয়েছে যা আগের স্কুলের সাথে মিল নেই। সরকার প্রতি বছর তার কারিকুলামে এনসিটিবি'র নির্ধারিত বই ছাড়া অন্য বই না দেয়ার কথা স্পস্ট উল্লেখ করে প্রতিটি বিদ্যালয়ে নির্দেশনা জারি করে থাকে । কিন্তু কে শোনে কার কথা? প্রতি বছর ভর্তি প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে স্কুল গুলো বাহারী বই নির্বাচনে আদাজল খেয়ে কাজ করে । বছরের শুরুতে যে কোম্পানী ফ্রি বই আর উপঢৌকোন পাঠিয়ে স্কুল কর্ত...

দরজা খুলে দেখি; কড়া নাড়ে স্মৃতি

ছবি
নভেম্বর মানে খুব ব্যস্ত মাস মনে হতো। ডিসেম্বরের শুরুতে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা হতো। গ্রামের কাঁচা রাস্তায় কচি দুর্বাদলের আগায় নরম শিশির মাড়িয়ে পথ চলাটা প্রত্যেক গ্রামবাসীর জন্যই প্রতিদিনের একটি সাধারন ঘটনা। প্রাইমারীতে বাড়ির আঙিনার স্কুলে পড়লেও মাধ্যমিকে বেশ খানিকটা দূরে যেতাম। সকালে গরম ভাত, আলুভর্তা, ডাল খেয়ে যাওয়াটা অনেকখানি গৌরবের মনে হতো। তৈয়বআলী জামাই প্রতিদিন বাজারে গিয়ে মন্টুর দোকানে আটার রুটি আর আলুভাজি খেতো। আমরা হাসাহাসি করতাম। আমাদের কাছে মনে হতো বাড়িতে ভাত না থাকলে বুঝি মানুষ বাজারে গিয়ে রুটি খায়। আমাদের স্কুলের দুই পাশে দুটো গার্লস স্কুল ছিলো। স্কুলে যাওয়া আসার সময়ে গার্লসের রাস্তা দিয়ে যাওয়া অনেক বন্ধুদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ছিলো । আমিও মাঝে মধ্যে যেতাম, তবে কেনো যেতাম সেটা তখন না বুঝলেও এখন বেশ বুঝি। সুফিয়ান স্যারের কাছে ইংরেজি আর গনিত বিষয়ে প্রাইভেট পড়তাম। স্যারের একটা ট্রেন্ড ছিলো স্যার ভালো স্টুডেন্ট ছাড়া পড়াতেন না। স্যার প্রায়ই একটা গল্প বলতেন, একবার কোন এক বন্ধুর বাড়িতে স্যার বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে দেখেন একটা ক্যালকুলেটর পড়ে রয়েছে। স্যার সেটা নেননি, এমনকি ছুয়ে...

নতুন কারিকুলাম ও আমাদের বাস্তবতা

ছবি
আজকের শিশুকে আগামি দিনের বাংলাদেশ হিসেবে বিনির্মান করতে চাইলে আর নাকে তেল দিয়ে ঘুমালে চলবে না। শিক্ষাখাতে ইনভেস্টমেন্ট এখন কেবলই সময়ের দাবী। জোড়াতালি দেয়া শিক্ষাব্যবস্থা, আবাসন আর নামমাত্র শিক্ষক দিয়ে কোনমতে খুড়িয়ে চললেও বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে নিতে হবে জোর দৌড়ের প্রস্তুতি। লেখকঃ এম. মাহামুদুল হাসান সুমনা আক্তার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা বেসরকারী একটি এনজিওতে চাকুরী করেন। বাবার চাকুরীর সুবাদে এ বছর তাকে স্কুল পরিবর্তন করতে হয়েছে। বছরের মাঝামাঝি সে ঢাকা শহরের একটি নামি বেসরকারী স্কুলে ভর্তি হয়েছে। সেখানে সরকারী ৩ (তিন) টি বইয়ের পাশাপাশি পড়তে হচ্ছে সাধারন জ্ঞান, কম্পিউটার, অংকন, পরিবেশ পরিচিতি, বিজ্ঞান এবং ধর্ম। এর আগে যে স্কুলে পড়তো সেখানেও এই বিষয়গুলোর কয়েকটি বিষয় সে পড়েছে। তবে বাধ সাধলো সিলেবাসে। আগের বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত বইগুলোতে যে অধ্যায়গুলো ছিল বর্তমানে সে অধ্যায়গুলো নেই। বইগুলোও অন্য প্রকাশনীর। এখানে তাকে নতুন বই কিনতে হয়েছে। উপরোক্ত বইগুলো ছাড়াও বাংলা ও ইংরেজি ২য় পত্র এবং গাইডের নামে এক প্রকাশনীর বই কিনতে বলা হয়েছে যা আগের স্কুলের সাথে মিল নেই। সরকার প্রতি বছর তার কারি...

যুদ্ধ নয় শান্তি চাই, শিশুর বাসযোগ্য পৃথিবী চাই

ছবি
যারা আজ পৃথিবীতে শান্তির কথা বলে তারাই ঘুরেফিরে যুদ্ধ সংঘাতে বেশি জড়িয়ে থাকে। আমাদের সমৃদ্ধি যত বেড়ে চলছে ততই সহিংসতা চরম মাত্রায় পৌঁছে যাচ্ছে। পৃথিবীর পারমাণবিক অস্ত্রধর রাষ্ট্রগুলো তাদের শক্তির মহড়ায় বরাবরই ভয়াবহতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পৃথিবীর আদিতে যখন মানুষ গুহায় বসবাস করত তখন থেকে শুরু করে আজ অবধি মানুষের চারিত্রিক কোন পরিবর্তন হয়নি। কেবল বাহিরের লোমশ অংশগুলো লোমহীন হয়েছে, গাছপালার পাতা, বাক লের পরিবর্তে কেবল কোট টাই আর দামী পোষাকে আবৃত করেছে নিজেকে। শিশুর বাসযোগ্য পৃথিবীর জন্য আমরা যতই গলা ফাটাই, কর্তা দেশগুলো এ ব্যাপারে একেবারেই নির্বিকার। তাদের অহমিকা, ক্ষমতার লড়াই, সম্রাজ্যবাদ আমাদের শিশুদের তৈরি করছে ভীত আর সন্ত্রস্ত।  যুগের পর যুগ যুদ্ধ সংঘাত আর বিভীষিকাময় পরিবেশ শিশুদের মনোজগতে আঘাত হানছে বারংবার। এ যুদ্ধ সংঘাত শেষ হবে কি কখনো? গত কয়েকযুগে এ পৃথিবী কখনো কি ছিল সংঘাতহীন? একটি যুদ্ধ শেষ হতে না হতে আরেকটি যুদ্ধ হাজির। প্রতিনিয়ত পৃথিবীর কোন না কোন প্রান্তে যুদ্ধ লেগেই আছে। যত দিন যাচ্ছে যুদ্ধে লিপ্ত দেশের সংখ্যা বেড়েই চলছে। আজ থেকে প্রায় ৭০ বছর আগে শুরু হয়েছিল ফি...