এসো বাংলাদেশকে জানি || ড. মুহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী
প্রিয় বন্ধুরা আজ আমরা আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ সম্পর্কে জানবো।
তোমরা সবাই জানো আমাদের দেশের নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। এ দেশের রাজধানী ঢাকা। বাংলাদেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার। বাংলাদেশের পশ্চিম, উত্তর ও পূর্ব দিকে ভারত, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার অবস্থিত। আমাদের মাতৃভূমির স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ ও বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর। এদেশের প্রধান ভাষা বাংলা এবং মুদ্রার নাম টাকা।
বন্ধুরা, তোমরা জানো এদেশের রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস।
গঙ্গাঋদ্ধি বা গঙ্গরিডই বাঙালিজনের প্রথম শক্তিশালী রাষ্ট্র। প্রায় দুই হাজার তিনশত (২৩০০) বছর আগের ইতিহাস গ্রিক-রোমান লেখক ও ঐতিহাসিকদের বর্ণনা বিশ্লেষণ করে অধিকাংশ পন্তিতই মত পোষণ করেন যে, গঙ্গাঋদ্ধি বা গঙ্গারিডই বাঙালির প্রাথমিক কালের পরাক্রম রাষ্ট্র। প্রাচীনকালে বাংলায় বঙ্গ নামে একটি জনপদ ছিল। কালক্রমে এ অঞ্চল বাংলা নামে পরিচিতি লাভ করে। আজকের বাংলাদেশের ভিন্ন ভিন্ন অংশ ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত ছিল। ঐতরেয় অরণ্যক নামক গ্রন্থে সর্বপ্রথম ‘বঙ্গ’ নামের উল্লেখ দেখা যায়। বঙ্গ বা বাংলা নামের উৎপত্তি নিয়ে যথেষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে। বৈদিক যুগে রচিত বিভিন্ন গ্রন্থে বাংলাদেশে মগধ, চের ও বঙ্গ এ তিনটি অঞ্চলের উল্লেখ রয়েছে। রামায়ণ ও মহাভারত এবং প্রাচীন বৌদ্ধ সাহিত্যেও বঙ্গ নামের উল্লেখ পাওয়া যায়। কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে চীনা শব্দ আং (যার অর্থ জলাভূমি) পরিবর্তিত হয়ে ‘বং’ শব্দে রূপান্তরিত হয় এবং এই বং থেকেই পরবর্তীতে বঙ্গ বা বাংলা নামের উৎপত্তি হয়। ঐতিহাসিক আবুল ফজলের মতে, বং থেকে বংগ এবং বংগের সাথে আল (আইল) যোগ হয়ে বংগাল নাম হয় যা পরবর্তীতে বাংলা নামে পরিচিতি পায়।
কোনো কোনো ঐতিহাসিক মনে করেন, বাংলাদেশের প্রাচীনতম জনগোষ্ঠী সাঁওতাল, কোল ও মুন্ডাদের এক দেবতার নাম ‘বোঙ্গা’। এই বোঙ্গা থেকেও বঙ্গ নামের উৎপত্তি হতে পারে। বাংলার ইতিহাসের প্রথম প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায় রাজা শশাঙ্কের আমল থেকে। সপ্তম শতাব্দীতে রাজা শশাঙ্ক গৌড়ে স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বাংলার জনপদসমূহকে গৌড় নামে একত্রিত করেন। তিনি সমগ্র বাংলা ভূখন্ড দুটি প্রশাসনিক এককে আনার চেষ্টা করেন। তাঁকে বাংলার প্রথম স্বাধীন নরপতি বলা হয়। ১৩৫২ সালে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলাকে একটি প্রশাসনের অধীনে আনার চেষ্টা করেন। তিনি এ অঞ্চলের নামকরণ করেন মূলক-ই বাঙ্গাঁলাহ। বাংলা নামটি সর্বপ্রথম মুঘল আমলে দেশ বাচক নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সম্রাট আকবরের শাসনামলে বাংলা একটি সুবার মর্যাদা লাভ করে এবং মুঘল দলিল পত্রে এর নামকরণ হয় ‘সুবে বাঙালা’। এ সময় থেকেই বাঙ্গালা নামটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। নওয়াবী আমলে এটাই ছিল দেশ বাচক নাম। ইংরেজরা এদেশকে ‘বেঙ্গল’ বা ‘বেঙ্গলা’ নামে অভিহিত করে। তারপর থেকেই ষোড়শ, সপ্তদশ, অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে পাশ্চাত্য দেশের বণিকগণ কাগজ পত্রে ঐ নামই ব্যবহার করত। আধুনিককালে সাধু বাংলায় লেখা হতো বাঙ্গালা। এর পর থেকে বাংলা, বঙ্গদেশ, বাংলাদেশ প্রভৃতি নাম ব্যবহৃত হতে থাকে। পাকিস্তান শাসনামলে এদেশের নাম ছিল পূর্ব বাংলা। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণায় ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ হিসেবে এদেশের নামকরণ করা হয়।
বিভাগীয় প্রধান
নরসিংদী সরকারী মহিলা কলেজ
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন