এসো মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনি|| কালাম মাহমুদ

 


নরসিংদী জেলার শিশুকিশোর মুখপত্র হাওয়াই মিঠাই কে দেয়া বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা, লেখক গবেষক প্রফেসর কালাম মাহমুদ এর বিশেষ সাক্ষাৎকার "এসো মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনি " সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন হাওয়াই মিঠাই সম্পাদক এম. মাহামুদুল হাসান।

হা.মিঃ স্যার, আস্সালামুআলাইকুম কেমন আছেন?
কালাম মাহমুদঃ পরম করুণাময়ের দয়ায় ভালো আছি। ধন্যবাদ।

হা.মিঃ আপনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এ ছাড়াও আপনাকে আমরা অনেকভাবে চিনি। অনেকগুলো অত্যন্ত সম্মানের পদ ও পদবী আপনার রয়েছে। এর মধ্যে কোন্ পরিচয়টা দিতে আপনি সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন?

কালাম মাহমুদঃ ধন্যবাদ প্রশ্নটা সহজ নয়। সবার জীবনেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িয়ে থাকে। সেখান থেকে একটি নির্বাচন করা সত্যি কঠিন। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। এটা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন। একাত্তর সনে ষোল বছর বয়সে ভারত থেকে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ৩ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। তারপর স্বাধীন দেশে আমার শিক্ষা ও কর্ম জীবন। লেখক ও গবেষক হিসেবে আমার এগারোটি মৌলিক গ্রন্থ দেশ-বিদেশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২০১৪ সনে স্বর্ণপদক ও শিক্ষাপ্রদীপ উপাধি লাভ করি।

হা.মিঃ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আপনার কোন স্মৃতিগুলো আপনার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে?

কালাম মাহমুদঃ চমৎকার প্রশ্ন। স্মৃতি তো অগণন। কোনোটি আনন্দে উজ্জ্বল, কোনোটি বেদনায় ধূসর আবার কোনোটি গৌরবে উদ্দীপিত। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ, হত্যাকাণ্ড, বাঙালির প্রতিরোধ আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণকালীন নানাঘটনা, দেশের ভেতরে সম্মুখযুদ্ধ পরিশেষে বিজয় অর্জনের দিন ষোল ডিসেম্বরের স্মৃতি খুব মনে পড়ে। নভেম্বরের শেষের দিকে আমাদের সম্মিলিতবাহিনী ঘোড়াশাল ঈশ্বরপুরে পাকিস্তান সেনাদের সঙ্গে বড় ধরনের সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। এইদিন ঘোড়াশাল ব্রিজ আক্রমণ করা হয়েছিল। এখানে আমাদের সহযোদ্ধা মোজাফফর শাহাদাৎ বরণ করেন। এই অপারেশনে আমরা সতেরো জন পাকিস্তান সেনা পাকড়াও করি। প্রশিক্ষণপর্বে কাকড়াবনের জঙ্গলপ্যারেডের কঠিন স্মৃতি মনে পড়ে। মনে পড়ে বিজয় দিনের আনন্দস্মৃতি। সেদিন আমরা ঘোড়াশাল ন্যাশনাল জুটমিলের ভেতরে শ্রমিক কলোনির মুক্তিযোদ্ধা ক্যম্পে ছিলাম। পাকিস্তানবাহিনীর আত্মসমর্পণের সংবাদ শুনে আনন্দে রাইফেল ও এলএমজি থেকে কয়েকবাক্স গুলী ফুটিয়েছিলাম। তারপর দল নিয়ে ঢাকার দিকে যাত্রা করি।

হা.মিঃ আপনি কোথায় কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন?

কালাম মাহমুদঃ ঢাকার ৩ নম্বর সেক্টর। সেক্টর প্রধান ছিলেন তৎকালীন মেজর কেএম শফিউল্লাহ। পরে তিনি বাংলদেশ সেনাবাহিনীর সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।

হা.মিঃ দু'একটা সম্মুখযুদ্ধের বর্ণনা যদি আমাদের নতুন প্রজন্মকে শোনাতেন।

কালাম মাহমুদঃ ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফেরার পথে হেজামারা ক্যাম্পে থাকা অবস্থায় আমাদের প্লাটুন সিলেটের সীমান্ত এলাকায় গেরিলা অপারেশন করে। এক রাতে আমি ও আমার সহযোদ্ধা সামাদ, চাচাত ভাই জাহাঙ্গীর এই অপারেশনে অংশ গ্রহণ করি। আমি এসএলআর (সেলফ লোডিং রাইফেল) ব্যবহার করি। দেশে ফেরার পর ডিসেম্বরের প্রথম দিকে থানা কমান্ডার এমএ আজিজ এবং প্লাটুন কমান্ডার এম এ কাদিরের নেতৃত্বে ঘোড়াশাল ব্রিজ এবং ঈশ্বরপুরের মাঠে সম্মুখযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করি। আমার সঙ্গে বীরমুক্তিযোদ্ধা গ্রুপ কমান্ডার এস কে জায়েদ, আবদুস সামাদ, আবদুল লতিফ, মোহাম্মদ আলী অংশ নেয়। তখন ঘোড়াশাল ব্রিজের দুপাশে পাকিস্তান সেনাদের বড় ক্যাম্প ছিল।

শেষ রাতে আমরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সংগঠিত হই। অস্ত্রগুলো ফলথ্রো করা হয়। সঙ্গে পর্যাপ্ত গুলী ও বিস্ফোরক নেয়া হয়। বড় অস্ত্রের মধ্যে ছিল রাশিয়ান এলএমজি। শেষ রাতে অতর্কিত আক্রমণে পাকিস্তান সেনারা আত্মসমর্পণ করে। সতেরজন সেনাসদস্য ধরা পড়ে। সিংলাব ইব্রাহিম মেম্বারের বাড়িতে সাবক্যাম্পে তাদের রাখা হয়। এই অপারেশনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেন শহীদ হন।

হা.মিঃ আপনাদের সফল অপারেশন গুলো কি কি?

কালাম মাহমুদঃ সিলেট সীমান্ত এলাকার গেরিলা আক্রমণ, ঈশ্বরপুর মাঠের সম্মুখযুদ্ধ, ঘোড়াশাল ব্রিজ অপারেশন, ন্যাশনাল জুটমিল থেকে পাকিস্তান সেনাদের হটানোর জন্য রেইড, সোমবাজার রেইড।

হা.মিঃ যুদ্ধের শুরুর দিকের কোন্ ঘটনা বা গল্প আপনাকে যুদ্ধে যেতে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল?

কালাম মাহমুদঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাত মার্চের ডাক, গণহত্যা, দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং আত্মরক্ষার তাগিদে এসকে জায়েদের নেতৃত্বে দশজন মিলে ভারত গমনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সিএ্যান্ড বি অতিক্রম করে ভারত যাই। কংগ্রেস ভবন ও হোল্ডিং ক্যাম্পে একমাস থাকার পর ত্রিপুরা রাজ্যের পালাটাস্থ ক্যাপ্টেন সুজাত আলী ক্যাম্পে গমন করি। এখান থেকে ৬২ দিনের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি।

হা.মিঃ যুদ্ধকালীন কোন ট্রাজেডি রয়েছে কি? থাকলে সেগুলো কি?

কালাম মাহমুদঃ ঈশ্বরপুর অপারেশনে সহযোদ্ধা শহীদ মোজাফফর হোসেনের মৃত্যু আমাদের গ্রুপের সবচাইতে বড় ট্রাজেডি। যুদ্ধ পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশে বীর সহযোদ্ধা আবদুস সামাদ, মো. শহর আলী, মো. তাজ উদ্দিনকে অজ্ঞাত ঘাতকেরা খুন করে। এটা ও আমাদের জন্য অনেক বড় ট্রাজেডি।

হা.মিঃ আপনি কোথায় যুদ্ধ করেছেন?

কালাম মাহমুদঃ আমি সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সিলেট সীমান্ত অঞ্চল এবং ৩ নম্বর সেক্টরের অধীন কালীগঞ্জ থানা এলাকায় যুদ্ধ করি।

হা.মিঃ আপনার সাথে যারা যুদ্ধ করেছেন এমন কারো গল্প শুনতে চাই।

কালাম মাহমুদঃ আমার সঙ্গে যারা যুদ্ধ করেছেন তাদের অনেকেই বেঁচে নেই; অনেকেই এখনো বেঁচে আছেন। থানা কমান্ডার এমএ আজিজ মোটাসোটা গঠনের ছিলেন। প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে দৌড়াতে পারতেন না বলে ইন্ডিয়ার সেনা প্রশিক্ষকরা তাকে কোয়ার্টার গার্ড দিয়েছিল। আমরাও সাজা ভোগ করেছিলাম।

পালাটানা ট্রেনিং ক্যাম্পে খাবার গ্রহণের সময় ডিম না পেয়ে গোলালু পাওয়ায় আবুল হোসেন লঙ্গরখানায় গিয়ে ঝগড়া বাঁধিয়েছিল। সিএন্ডবি ক্রস করার সময় মিলিটারিরা ব্রাশ ফায়ার করলে আবুল হোসেন নৌকা থেকে লাফ দিয়ে ধানখেতের পানিতে পড়ে গিয়েছিলেন। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।মোমেনুল হক আমাদের গ্রুপ কমান্ডার ছিলেন। অস্ত্র চালানোর সময় তার হাত কাঁপতো বলে নিশানা ঠিক থাকতো না। গ্রেনেড চার্জ করতে গিয়ে ভুল বশত দূরে থ্রো করতে না পারায় গ্রেনেডটি কাছে পড়ে যায়। তখন ইন্ডিয়ার সেনাসদস্য গ্রেনেডটি দ্রুত হাতে নিয়ে দূরে নিক্ষেপ করে আমাদের বাঁচান। সেফটি পিন খোলার পরেও একটি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হতে ৫/৬ সেকেন্ড সময় নেয়।

মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আউয়াল ভালো হিন্দি গান জানতেন আমিও কয়েকটি গাইতাম। অস্ত্র প্রশিক্ষণের ফাঁকে ফাঁকে বিরতির সময় যোদ্ধাদের উৎসাহ দিতে আমরা হিন্দি গান গাইতাম। ভারতীয় সেনারা অনেক আনন্দ পেতো।

খলাপাড়ার মাজহার অনেক লম্বা ছিলেন বলে ইন্ডিয়ান প্রশিক্ষকগণ তাকে 'লামু' সম্বোধন করতেন। আরো কত স্মৃতি।

হা.মিঃ দেশ স্বাধীন করতে পারবেন সেটা কি আপনারা পূর্বেই ভেবেছিলেন?

কালাম মাহমুদঃ দেশকে মুক্ত করার দৃঢ় অঙ্গিকার নিয়েই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। ভারত আর রাশিয়ার সক্রিয় সহযোগিতা

আমাদের শক্তি যোগাতো। আমেরিকা ও চীনের বিরোধিতা প্রত্যাশাকে বিঘ্নিত করতো। তবে এতো তাড়াতাড়ি দেশ স্বাধীন হবে এমনটা আশা করতে পারিনি।

প্রশ্নঃ মুক্তিযুদ্ধ করার প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন কেন?

কালাম মাহমুদঃ পশ্চিমা শাসকদের নিপীড়ন ও শোষণ, সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য, পরিশেষে গণহত্যা ও সামরিক শক্তি ব্যবহার করে জাতিকে বিনাশ করার ষড়যন্ত্রকে প্রতিরোধ করতে সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না।

হা.মিঃ যুদ্ধশেষে দেশ গড়ায় কি কি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন?

কালাম মাহমুদঃ মুক্তিযুদ্ধকালে আমার বয়স ১৬ বছর। এসএসসি পরীক্ষা না দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করার জন্য বঙ্গবন্ধুর সরকার নানা উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। নতুন সংবিধান ও মুদ্রা চালু হয়। দেশ জাতিসঙ্ঘের সদস্যপদ লাভ করে। সেনাবাহিনী ও প্রাশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যস্ত করা হয়। আমি নতুন উদ্যমে লেখাপড়ায় মনোযোগী হই।

হা.মিঃ যে লক্ষ্য নিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছেন?

কালাম মাহমুদঃ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। একাত্তরের স্বপ্ন পরিপূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হয়েছে এমনটি বলতে পারছি না। যুদ্ধ করে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ প্রতিষ্ঠা করেছি, একটি লালসবুজের পতাকা পেয়েছি এটাই বড় অর্জন। কিন্তু স্বাধীনতার পঞ্চাশ পরেও গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মরিপেক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। জাতীয় ভাষা বাঙলাকে সর্বস্তরে চালু হয়নি। দেশের আয় ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও শিক্ষা, নৈতিকতা, উৎপাদন, সৃজনশীলতা, বিজ্ঞান প্রযুক্তির ব্যবহারে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। অপরাজনীতি, দুর্নীতি আর বৈদেশিক ঋণের বোঝা দেশের জন্য এখন বড় সঙ্কট। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

হা.মিঃ দেশ আপনাদের আত্মত্যাগের কি সুফল পাচ্ছে?

কালাম মাহমুদঃ দেশের মানুষের আত্মত্মত্যাগের কারণে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটা সবচাইতে বড় সুফল। তারপর অর্থনীতি, শিক্ষা, যোগাযোগ, কৃষি, বিজ্ঞান, সাহিত্য-সংস্কৃতি, ভাষা, জনস্বাস্থ্য এসব প্রসঙ্গ এসে যায়। এসব ক্ষেত্রে অভাবিত উন্নয়ন সধিত হয়েছে। পঞ্চাশ বছর পর বাংলাদেশ সারা বিশ্বে উন্নয়নের মডেল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ২০২৪ সনের মধ্যে এ দেশ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বকৃতি পাবো বলে বিশ্বাস করি। এখন দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ৩৫০০ মার্কিন ডলার।

হা.মিঃ যেমন দেশ চেয়েছিলেন সেটা কি পেয়েছেন?

কালাম মাহমুদঃ স্বপ্ন দেখেছিলাম সমৃদ্ধি, শান্তি ও সম্প্রীতিময় সোনার বাংলা। স্বপ্নের সোনার বাংলাকে এখনো প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। দেশের জাতীয় সঙ্গীতে আছে 'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভলোবাসি।' দেশকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে এমন নাগরিকের সংখ্যা কম। স্বাধীনদেশ থেকে দুর্নীতি, খুন, ধর্ষণ, অপরাজনীতিকে হটাতে পারিনি। গণতন্ত্র ও সহনশীল রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। এগুলো বড় ব্যর্থতা। নিঃসঙ্কোচেই বলি, স্বপ্নের রূপসী বাংলা এখনো পাইনি। আগামী দিনের অপেক্ষায় রইলো জনগণ।

হা.মিঃ কেমন দেশ আপনি চান?

কালাম মাহমুদঃ দেশ নিয়ে প্রত্যাশার তো শেষ নেই। জাতীয় সঙ্গীতে যে দেশের কথা বলা হয়েছে- 'সোনার বাংলা'। সোনার বাংলা চাই, রূপসী বাংলা চাই, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চাই। এমন দেশ চাই যেখানে থাকবে না দারিদ্র্য, অশিক্ষা, দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতা: থাকবে না দুষ্ট রাজনীতি ও প্রতিহিংসা। শান্তি ও সম্প্রীতির দেশ চাই।

হা.মিঃ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আপনার কোন গবেষণা আছে কি?

কালাম মাহমুদঃ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমার তিনটি মৌলিক গ্রন্থ আছে- 'স্বাধীন বাংলাদেশ: অভ্যুদয়ের ইতিহাস', 'মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ', 'বীর বাঙালির পালা'। তাছাড়া বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত অনেক প্রবন্ধ-নিবন্ধ আছে।

হা.মিঃ পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আপনার উপদেশ কি?

কালাম মাহমুদঃ দেশ, দেশের মানুষ ও মাতৃভাষাকে ভালোবেসে সুনাগরিক হওয়া, চরিত্রগঠন, বিদ্যা অর্জন করে বিদ্বান হওয়া, বিজ্ঞান ও মৌলিক আবিষ্কারের জন্য সাধনা করা।

হা.মিঃ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এমন অপ্রকাশিত কোন গল্প আছে যা আপনি বলতে চান?

কালাম মাহমুদঃ সিএ্যান্ডবি ক্রস করে মাধবপুর স্কুলে আশ্রয় নিলাম। মাধবপুর থেকে আগরতলা কংগ্রেসভবন। এখানে নাম নিবন্ধন করে আমি, জাহাঙ্গীর আর সামাদ নিচে হোটেলে ভাত খেতে গেলাম। পকেটে টাকা নেই। হিন্দু হোটেল। ডাকছে, জল খাসি থাবেন, জলখাসি? আসুন দাদা ভাত খান। আমরা ভেতরে ঢুকে জল খাসি দিয়ে ভাত খেলাম। ভেবেছিলাম খাসির গোশত্। পরে জানলাম জল খাসি না, কাছিম। তিনজনের কেউ টের পেলাম না। সামাদ বললো, কাছিম তো মানুষেই খায়। আইসা পড়।

তারিখ: ২২.১২.২৩, শুক্রবার, নরসিংদী।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যুদ্ধ নয় শান্তি চাই, শিশুর বাসযোগ্য পৃথিবী চাই

বৃত্তি পরীক্ষা ও শিশুর অধিকার: বৈষম্যের বিপরীতে যুক্তির ভাষা

বাংলা ছড়া : তানজিলা কাওছার