ভ্রমন কাহিনী: পদ্মা সেতুতে এক রাত

 






৩ মে, ২০২৩, প্রথম পার্বিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আমাদের পরীক্ষা সকাল ৯ টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২ টা বাজে শেষ হয়। বাসায় আসতে প্রায় ১টা বেজে গেছে। বাসায় এসে গোসল করে খাওয়ার সময় শুনতে পেলাম আমরা নাকি আজকে ঘুরতে যাবে। আমরা মাঝে মধ্যেই ঘুরতে যাই। কিন্তু হঠাৎ পরীক্ষার মধ্যে কেন ঘুরতে যাবো তা বুঝতে পারলাম না। আমার পরবর্তী পরীক্ষা ছিল ৭ তারিখ অর্থাৎ রবিবার তাই আমার কোন সমস্যা ছিল না। দুপুরের খাবার খেয়ে একটু বিশ্রাম নিলাম। বিকেলে বাবা বাসায় আসল। জানতে পারলাম আজকে বাবু অঙ্কেলের- জন্মদিন। আব্বু বলল তাই আজকে আমরা পদ্মা সেতুতে ঘুরতে যাবো। আমি শুনে খুবই খুশি হলাম। কারণ আমার খুব ইচ্ছা ছিল পদ্মা সেতুতে ঘুরতে যাওয়ার। পদ্মা সেতু হলো আমাদের দেশের মেগাপ্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম। আমি, আম্মু, আব্বু ,ছোট বোন মম, মেজ ফুপিও মেজ মামা আমরা সকলে একসাথে রাত্র ৯ টার সময় বের হলাম। আমাদের সকলের একসাথে যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া করা হয়েছে। আমাদের সাথে বাবু অঙ্কেলের পরিবার, রুবেল অঙ্কেল ও সামি ভাইয়া সহ আরও ৩ (তিন)  জন ছিলাম আমরা সবাই রাত ৯ টায় রওনা হলাম। আমরা খুব আনন্দ উল্লাস নিয়ে ঢাকায় ঢুকলাম। কিন্তু যাত্রাবাড়িতে আসার পর দেখতে পেলাম অনেক ট্রাফিক জ্যাম। দুর্ভাগ্য ক্রমে আমরা যে রাস্তাটি দিয়ে যওয়ার কথা সে রাস্তাটি মিস করে ফেলি এবং ফ্লাইওভারে ওঠে যাই। সেখানে আমি সিটি করপোরেশনের ভবন দেখি। যেটি খুব সুন্দর ছিল। এত সুন্দর ভবন আমি আগে কখনো দেখি নি। সেখানে আমি একটা কলেজ ও দেখি যেখান থেকে আমার আব্বু পড়াশোনা করেছে। তারপর সেখান থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে আমরা আবার ক্লাইওভারে ওঠি। এবং আমরা খেয়াল করতে থাকি সে আবার রাস্তা মিস না হয়। কিন্তু এবার- আর রাস্তা মিস হয় নি । সেখান থেকে আমাদের পদ্মা সেতুর কাছে যেতে যেতে রাত প্রায়১২ টা বেজে গেল।


আমরা পদ্মা সেতুতে ওঠে গেলাম। পদ্মা সেতুতে ওঠার পর মনে হচ্ছিল আমি যেন কোন বিদেশী রাস্তায় আছি। সেতুর নিচে ছিল পদ্মা নদী। সেতু থেকে নদীর দৃশ্য এতই মনোমুগদ্ধকর ছিলো যা না দেখলে অনুভব করতে পারতাম না। নদীতে ছিল হাতে গোনা কয়েকটা নৌকা। মনে হচ্ছিল নদীর মধ্যে কেউ আলোর আলোর প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছে এবং খুবই সুন্দর। নদী পার হওয়ার পর আমরা আরও সামনে গিয়ে সেতুর দুপাশে জঙ্গল দেখতে পাই। পদ্মা সেতুতে গাড়ি থামিয়ে নামার কোন অনুমতি ছিল না। রাস্তা পার হতে আমাদের প্রায় আধা ঘণ্টা লাগল।

পরক্ষনে আমরা মাওয়া ফেরিঘাট যাই। সেখানে আমরা কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিই। আমি অনেকগুলে অব্যবহৃত ফেরি দেখি। এদিকে আব্বু আর সামি ভাইয়া দেখতে গেলো কোন রেস্তোরায় খেতে আমাদের জন্য ভালো হয়। তারপর সবাই মিলে ইলিশ আড্ডা নামক একটি রেস্তোরায় গেলাম। সেখানে পদ্মার ইলিশ ভাজা, ভাত ও ভর্তা খেলাম যা ছিল মনে রাখার মত। আমরা আরও কিছুক্ষণ সেখানের মনোমুগদ্ধকর দৃশ্য দেখলাম। প্রায় রাত্র ৩ টার দিকে আমরা নরসিংদীর উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। এভাবে শেষ হলো স্মৃতিময় একটি রাত। যা আমার চোখের সামনে প্রায়ই ভেসে ওঠে।

লিখেছেন বন্ধু:
তৌসিফ বিন সায়েম
৮ম শ্রেণি 

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যুদ্ধ নয় শান্তি চাই, শিশুর বাসযোগ্য পৃথিবী চাই

বৃত্তি পরীক্ষা ও শিশুর অধিকার: বৈষম্যের বিপরীতে যুক্তির ভাষা

বাংলা ছড়া : তানজিলা কাওছার