পোস্টগুলি

নরসিংদী জেলার সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা ও সীমাবদ্ধতা

ছবি
  সাহিত্যের গতিপথ ত্রিভঙ্গিম, সত্য,সুন্দর ও শৈল্পিক। নন্দন মাঠে অনুভূতির ভাষাগত বপনই সাহিত্য।প্রকৃতার্থে সাহিত্য হলো জীবনাচারের ভাষাগত শৈল্পিক  প্রকাশ। ভাষা সৃষ্টির কাল থেকেই মানুষ ভাষাগত অনুভূতি প্রকাশের উপায় খুঁজছে আর সময়ান্তরে তা হয়েছে বিচিত্রমাত্রিক। মানুষের চিন্তাজগত বিচিত্র বলে এর ভাষাগত প্রকাশও বিচিত্র। হাসি-কান্না,সুখ-দু:খ এসব অনুভবের আক্ষরিক আঁচড়েই নান্দনিক হয় সাহিত্যের  সোপান। কথা আর সাহিত্যের মধ্যে পার্থক্য হলো অলঙ্কার আর কাঠামো। যাকে আমরা সাহিত্য বলবো তার নর্ম অনুযায়ী ভাষাগত শরীর ও অলঙ্কার থাকা চাই। অনুভূতির জগত অনেকটা অদৃশ্যমান হলেও সাহিত্য দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান দুই ভঙ্গিমায় হাঁটাচলা করে। প্রকৃতার্থে সাহিত্যের কোনো শিক্ষক বা গুরুজি নেই। কেউ কেউ বলে থাকেন,আছে,লাগে।আমার দৃষ্টিতে এসব লাগেনা।যদি তেমন ভাবে প্রয়োজন হতো তাহলে লালন,রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল সাহিত্য চর্চা করতে পারতেন না। কিছুটা ভাষাজ্ঞান থাকার পরে পরিবেশ,পরিস্হিতি,স্বগত ভাবনার সূক্ষ্ম অনুভূতি গুলো অনুরণন পেলে চেতনার চাতালে হেসে ওঠে সাহিত্যের ফল্গুধারা। আবহমান কাল থেকে আমাদের নরসিংদীর নন্দন হলো তাঁতকাপড়,তরি...

শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও হাসের প্যাঁক প্যাঁকের দৌড়াদৌড়ি

ছবি
প্রথমত বলে রাখি প্যাঁক প্যাঁক প্রশিক্ষণটি নতুন কারিকুলামের অংশ নয়। এটা ম্যাথ অলিম্পিয়াড প্রশিক্ষণের একটি আইডিয়া। এর মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দশমিক ভগ্নাংশের ধারণা দেওয়া হয়। (২০২০ ও ২০২১ সালের কথা) প্যাঁক প্যাঁকের দৌড়াদৌড়ি নিয়ে ইদানীং  ফেসবুকে কেউ কেউ ট্রল করছেন। আমি জানিনা বিষয়টি তাঁরা জেনে নাকি না জেনে, না বুঝে এমনটি করছেন। কেউ কেউ লিখেছেন প্রশিক্ষণের নামে  প্রাথমিক শিক্ষকদের এতোটা নিচে নামানো ঠিক হয়নি। কেউ কেউ লিখেছেন প্রশিক্ষণে Ice breaking ( জড়তা দূর করার জন্য বিভিন্ন কৌশল)  প্রয়োজন আছে তাই বলে হাঁসের মতো প্যাঁক প্যাঁক করতে হবে। আবার  কেউ লিখেছেন প্রশিক্ষণে মজা করার মতো আরও কত কিছু  ছিল! আর এটি দিয়ে শিক্ষার্থীরাই বা কী শিখবে? প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ ছাড়া অন্যান্য  শিক্ষকগণের বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা না থাকা হেতু কোন কমেন্ট করতে না পারায় বিব্রতবোধ করেছেন । আবার অনেকে আমার কাছ থেকে  বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। তাহলে আসুন জেনে নেই 'প্যাঁক প্যাঁকের দৌড়াদৌড়ি'   আইডিয়াটা আসলে কী!  আগে একটি গল্প শুন...

নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা ও আমাদের ভঙ্গুর অবকাঠামো

ছবি
সুমনা আক্তার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা বেসরকারী একটি এনজিওতে চাকুরী করেন। বাবার চাকুরীর সুবাদে এ বছর তাকে স্কুল পরিবর্তন করতে হয়েছে। বছরের মাঝামাঝি সে ঢাকা শহরের একটি নামি বেসরকারী স্কুলে ভর্তি হয়েছে। সেখানে সরকারী ৩ (তিন) টি বইয়ের পাশাপাশি পড়তে হচ্ছে সাধারন জ্ঞান, কম্পিউটার, অংকন, পরিবেশ পরিচিতি, বিজ্ঞান এবং ধর্ম। এর আগে যে স্কুলে পড়তো সেখানেও এই বিষয়গুলোর কয়েকটি বিষয় সে পড়েছে। তবে বাধ সাধলো সিলেবাসে। আগের বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত বইগুলোতে যে অধ্যায়গুলো ছিল বর্তমানে সে অধ্যায়গুলো নেই। বইগুলোও অন্য প্রকাশনীর। এখানে তাকে নতুন বই কিনতে হয়েছে। উপরোক্ত বইগুলো ছাড়াও বাংলা ও ইংরেজি ২য় পত্র এবং গাইডের নামে এক প্রকাশনীর বই কিনতে বলা হয়েছে যা আগের স্কুলের সাথে মিল নেই। সরকার প্রতি বছর তার কারিকুলামে এনসিটিবি'র নির্ধারিত বই ছাড়া অন্য বই না দেয়ার কথা স্পস্ট উল্লেখ করে প্রতিটি বিদ্যালয়ে নির্দেশনা জারি করে থাকে । কিন্তু কে শোনে কার কথা? প্রতি বছর ভর্তি প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে স্কুল গুলো বাহারী বই নির্বাচনে আদাজল খেয়ে কাজ করে । বছরের শুরুতে যে কোম্পানী ফ্রি বই আর উপঢৌকোন পাঠিয়ে স্কুল কর্ত...

দরজা খুলে দেখি; কড়া নাড়ে স্মৃতি

ছবি
নভেম্বর মানে খুব ব্যস্ত মাস মনে হতো। ডিসেম্বরের শুরুতে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা হতো। গ্রামের কাঁচা রাস্তায় কচি দুর্বাদলের আগায় নরম শিশির মাড়িয়ে পথ চলাটা প্রত্যেক গ্রামবাসীর জন্যই প্রতিদিনের একটি সাধারন ঘটনা। প্রাইমারীতে বাড়ির আঙিনার স্কুলে পড়লেও মাধ্যমিকে বেশ খানিকটা দূরে যেতাম। সকালে গরম ভাত, আলুভর্তা, ডাল খেয়ে যাওয়াটা অনেকখানি গৌরবের মনে হতো। তৈয়বআলী জামাই প্রতিদিন বাজারে গিয়ে মন্টুর দোকানে আটার রুটি আর আলুভাজি খেতো। আমরা হাসাহাসি করতাম। আমাদের কাছে মনে হতো বাড়িতে ভাত না থাকলে বুঝি মানুষ বাজারে গিয়ে রুটি খায়। আমাদের স্কুলের দুই পাশে দুটো গার্লস স্কুল ছিলো। স্কুলে যাওয়া আসার সময়ে গার্লসের রাস্তা দিয়ে যাওয়া অনেক বন্ধুদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ছিলো । আমিও মাঝে মধ্যে যেতাম, তবে কেনো যেতাম সেটা তখন না বুঝলেও এখন বেশ বুঝি। সুফিয়ান স্যারের কাছে ইংরেজি আর গনিত বিষয়ে প্রাইভেট পড়তাম। স্যারের একটা ট্রেন্ড ছিলো স্যার ভালো স্টুডেন্ট ছাড়া পড়াতেন না। স্যার প্রায়ই একটা গল্প বলতেন, একবার কোন এক বন্ধুর বাড়িতে স্যার বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে দেখেন একটা ক্যালকুলেটর পড়ে রয়েছে। স্যার সেটা নেননি, এমনকি ছুয়ে...

নতুন কারিকুলাম ও আমাদের বাস্তবতা

ছবি
আজকের শিশুকে আগামি দিনের বাংলাদেশ হিসেবে বিনির্মান করতে চাইলে আর নাকে তেল দিয়ে ঘুমালে চলবে না। শিক্ষাখাতে ইনভেস্টমেন্ট এখন কেবলই সময়ের দাবী। জোড়াতালি দেয়া শিক্ষাব্যবস্থা, আবাসন আর নামমাত্র শিক্ষক দিয়ে কোনমতে খুড়িয়ে চললেও বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে নিতে হবে জোর দৌড়ের প্রস্তুতি। লেখকঃ এম. মাহামুদুল হাসান সুমনা আক্তার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা বেসরকারী একটি এনজিওতে চাকুরী করেন। বাবার চাকুরীর সুবাদে এ বছর তাকে স্কুল পরিবর্তন করতে হয়েছে। বছরের মাঝামাঝি সে ঢাকা শহরের একটি নামি বেসরকারী স্কুলে ভর্তি হয়েছে। সেখানে সরকারী ৩ (তিন) টি বইয়ের পাশাপাশি পড়তে হচ্ছে সাধারন জ্ঞান, কম্পিউটার, অংকন, পরিবেশ পরিচিতি, বিজ্ঞান এবং ধর্ম। এর আগে যে স্কুলে পড়তো সেখানেও এই বিষয়গুলোর কয়েকটি বিষয় সে পড়েছে। তবে বাধ সাধলো সিলেবাসে। আগের বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত বইগুলোতে যে অধ্যায়গুলো ছিল বর্তমানে সে অধ্যায়গুলো নেই। বইগুলোও অন্য প্রকাশনীর। এখানে তাকে নতুন বই কিনতে হয়েছে। উপরোক্ত বইগুলো ছাড়াও বাংলা ও ইংরেজি ২য় পত্র এবং গাইডের নামে এক প্রকাশনীর বই কিনতে বলা হয়েছে যা আগের স্কুলের সাথে মিল নেই। সরকার প্রতি বছর তার কারি...

যুদ্ধ নয় শান্তি চাই, শিশুর বাসযোগ্য পৃথিবী চাই

ছবি
যারা আজ পৃথিবীতে শান্তির কথা বলে তারাই ঘুরেফিরে যুদ্ধ সংঘাতে বেশি জড়িয়ে থাকে। আমাদের সমৃদ্ধি যত বেড়ে চলছে ততই সহিংসতা চরম মাত্রায় পৌঁছে যাচ্ছে। পৃথিবীর পারমাণবিক অস্ত্রধর রাষ্ট্রগুলো তাদের শক্তির মহড়ায় বরাবরই ভয়াবহতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পৃথিবীর আদিতে যখন মানুষ গুহায় বসবাস করত তখন থেকে শুরু করে আজ অবধি মানুষের চারিত্রিক কোন পরিবর্তন হয়নি। কেবল বাহিরের লোমশ অংশগুলো লোমহীন হয়েছে, গাছপালার পাতা, বাক লের পরিবর্তে কেবল কোট টাই আর দামী পোষাকে আবৃত করেছে নিজেকে। শিশুর বাসযোগ্য পৃথিবীর জন্য আমরা যতই গলা ফাটাই, কর্তা দেশগুলো এ ব্যাপারে একেবারেই নির্বিকার। তাদের অহমিকা, ক্ষমতার লড়াই, সম্রাজ্যবাদ আমাদের শিশুদের তৈরি করছে ভীত আর সন্ত্রস্ত।  যুগের পর যুগ যুদ্ধ সংঘাত আর বিভীষিকাময় পরিবেশ শিশুদের মনোজগতে আঘাত হানছে বারংবার। এ যুদ্ধ সংঘাত শেষ হবে কি কখনো? গত কয়েকযুগে এ পৃথিবী কখনো কি ছিল সংঘাতহীন? একটি যুদ্ধ শেষ হতে না হতে আরেকটি যুদ্ধ হাজির। প্রতিনিয়ত পৃথিবীর কোন না কোন প্রান্তে যুদ্ধ লেগেই আছে। যত দিন যাচ্ছে যুদ্ধে লিপ্ত দেশের সংখ্যা বেড়েই চলছে। আজ থেকে প্রায় ৭০ বছর আগে শুরু হয়েছিল ফি...