দল নয়, মানুষ: একটি দলনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন


লেখক: Md Mahamudul Hasan

বাংলাদেশের প্রায় ১৭ কোটিরও বেশি মানুষের এই রাষ্ট্রে সক্রিয় দলীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত মানুষের সংখ্যা খুব বেশি নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো—রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত, উত্তেজনা ও সংঘাত—সবকিছু ঘুরপাক খায় দলীয় কাঠামোর ভেতরেই।

দল মানেই মতভেদ—এটি স্বাভাবিক। কিন্তু দল মানেই যদি দলাদলি, সহিংসতা, ক্ষমতার লড়াই এবং পারিবারিক উত্তরাধিকার—তবে প্রশ্ন তুলতেই হয়: আমরা কি অন্য কোনো পথ কল্পনা করতে পারি না?

আমি বিশ্বাস করি, জনগণের সরাসরি ভোটাধিকার অবশ্যই থাকতে হবে। কিন্তু সেই ভোট কোনো দলীয় প্রতীক বা ব্যানারের অধীনে নয়—বরং ব্যক্তির যোগ্যতা, সততা ও দক্ষতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।


দলনিরপেক্ষ কিন্তু গণতান্ত্রিক

আমার প্রস্তাব একটি দলনিরপেক্ষ শাসনব্যবস্থা, যেখানে—

  • সব প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন
  • শিক্ষাগত, পেশাগত ও নৈতিক মানদণ্ড বাধ্যতামূলক হবে
  • দুর্নীতিমুক্ত ও অপরাধমুক্ত রেকর্ড থাকতে হবে
  • সম্পদ ঘোষণা বাধ্যতামূলক থাকবে

এতে জনগণ ব্যক্তি নির্বাচন করবে, দল নয়।


মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সরাসরি নির্বাচন

প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ খাত—শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থ, কৃষি—এর জন্য আলাদা নির্বাচন হতে পারে।

যিনি শিক্ষা বিষয়ে দক্ষ, তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রার্থী হবেন। জনগণ সরাসরি তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে। এভাবে “মন্ত্রী” হবেন সংশ্লিষ্ট খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তি—শুধু জনপ্রিয় বক্তা নন।

জেলা ও বিভাগীয় স্তরেও প্রতিনিধি নির্বাচন হবে—তবে দলীয় পরিচয় ছাড়া।


সমন্বিত জাতীয় কাঠামো

সব নির্বাচিত মন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত হবে একটি “জাতীয় সমন্বয় পরিষদ”। তাদের মধ্য থেকে একজন নির্বাচিত হবেন প্রধান সমন্বয়ক—বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বিকল্প ধারণা হিসেবে।

এই কাঠামোতে ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত না হয়ে সমষ্টিগতভাবে পরিচালিত হবে। এ ধরনের সমষ্টিগত নেতৃত্বের ধারণা আংশিকভাবে দেখা যায় Switzerland-এর ফেডারেল কাউন্সিল পদ্ধতিতে, যদিও আমাদের বাস্তবতা ভিন্ন।


কঠোর জবাবদিহি

এই ব্যবস্থার মূল শক্তি হবে জবাবদিহি।

  • বার্ষিক কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন
  • স্বাধীন অডিট কমিশন
  • নাগরিক শুনানি
  • নির্দিষ্ট শতাংশ ভোটারের আবেদনে তদন্ত বা অনাস্থা প্রক্রিয়া

ক্ষমতা থাকবে, কিন্তু তার চেয়ে বড় হবে জবাবদিহি।


চ্যালেঞ্জ কি নেই?

অবশ্যই আছে।

সমন্বয় জটিল হতে পারে। সাংবিধানিক পরিবর্তন প্রয়োজন হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিরোধ আসবে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—বর্তমান পদ্ধতিতে কি আমরা সত্যিই স্থিতিশীলতা পাচ্ছি? যদি দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা একদিন সব নেতৃত্বকেই দুর্নীতির সন্দেহে ফেলতে থাকে, তবে নতুন পথ খোঁজার দায়িত্ব কি আমাদের নয়?


উপসংহার

আমি রাজনীতি বিলুপ্ত করতে চাই না; আমি রাজনীতির অপসংস্কৃতি দূর করতে চাই।

রাষ্ট্র মানে জনগণ। জনগণের সরাসরি, দলনিরপেক্ষ ও যোগ্যতাভিত্তিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল, সুশাসিত ও নৈতিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব—যদি আমরা সত্যিই তা চাই।

অসম্ভব নয়।
কিন্তু সাহসী চিন্তা ছাড়া কোনো পরিবর্তনই সম্ভব নয়।




মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

যুদ্ধ নয় শান্তি চাই, শিশুর বাসযোগ্য পৃথিবী চাই

বৃত্তি পরীক্ষা ও শিশুর অধিকার: বৈষম্যের বিপরীতে যুক্তির ভাষা

বাংলাদেশের কবি পরিচিতি