বৃত্তি পরীক্ষা ও শিশুর অধিকার: বৈষম্যের বিপরীতে যুক্তির ভাষা
– হাওয়াই মিঠাই ব্লগে একজন সচেতন অভিভাবকের লেখা
বাংলাদেশে কিন্ডারগার্টেন ব্যবস্থার শুরু হয়েছিল ১৯৭০-এর দশকে, শহরের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর চাহিদা পূরণে। আজ তা ছড়িয়ে পড়েছে জেলা-উপজেলা ছাড়িয়ে গ্রাম পর্যন্ত।
বর্তমানে কিন্ডারগার্টেনে ১৫-২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। অনেক পরিবারই সীমিত আয়ের মধ্যেও সন্তানের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে চায়।
আমরা কেউ চাই না বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অহরহ গজিয়ে উঠুক। আমরা চাই—প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিশুর বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করুক।
বৃত্তি পরীক্ষা: উদ্দেশ্য যদি হয় মেধার স্বীকৃতি…
সরকারি এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। তারা দেশের শিক্ষা কাঠামোর দুইটি ভিন্ন ধারা মাত্র। তাদের লক্ষ্য একই—শিশুদের বিকশিত করা, শিক্ষিত করে তোলা। তবে এটাও সত্য, কিছু প্রতিষ্ঠান কেবল ব্যবসার মানসিকতা নিয়ে গড়ে উঠছে, যেখানে শিক্ষার চেয়ে আয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এটা যেমন ভুল, তেমনি সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অবিশ্বাস করাও অনুচিত।
শিক্ষায় সেবা থাকতে হবে—ব্যবসা থাকলেও তা যেন দায়িত্বের সাথে যুক্ত হয়।
অভিন্ন নীতিমালার দাবি
সরকার চাইলে বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোকে একটি রেজিস্ট্রেশন ও মান নির্ধারণ কাঠামোর মধ্যে আনতে পারে—
• পাঠ্যসূচি
• শিক্ষক নিয়োগ
• অবকাঠামো
• নিরাপত্তা
• মান নিয়ন্ত্রণ
এই প্রক্রিয়ায় সকল প্রতিষ্ঠান একই মানদণ্ডে পরিমাপযোগ্য হবে। এতে বেসরকারি ও সরকারি শিক্ষার মধ্যে যে আস্থার ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা দূর হবে।
সিদ্ধান্ত নয়, সমাধান চাই
বর্তমানে অনেকে এক সন্তানকে দুই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি রেখেছেন—সরকারি বৃত্তি পেতে এবং মানসম্মত পড়াশোনাও চালাতে।
কিন্তু সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দ্বৈত ভর্তি বাতিলযোগ্য। ফলে অভিভাবকেরা পড়েছেন অস্পষ্টতার মধ্যে।
এভাবে সংকট না বাড়িয়ে দরকার বাস্তবমুখী সমাধান, যেখানে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থই প্রাধান্য পাবে।
উপসংহার: ন্যায়ের পথে হোক শিক্ষা
শিক্ষা অধিকার—প্রতিযোগিতার হাতিয়ার নয়। একটি শিশুর বিদ্যালয় সরকারি না বেসরকারি, সেটি তার নিয়তির নির্ধারক হতে পারে না। তার মেধা, মনন ও সম্ভাবনাই হোক তার মূল্যায়নের মাপকাঠি।
আমি চাই, শিক্ষা ব্যবস্থায় যেন সবার জন্য সমান সুযোগ, স্বচ্ছ নীতিমালা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় থাকে।
সরকারের কাছে অনুরোধ, বৃত্তি পরীক্ষাকে সকল শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত করা হোক—যাতে কোন শিশু তার যোগ্যতার স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত না হয়।
লেখক: একজন অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী ও সচেতন নাগরিক
প্রকাশিত: জুলাই, ২০২৫
#শিশুঅধিকার #বৃত্তিপরীক্ষা #বাংলাদেশশিক্ষা #হাওয়াইমিঠাই
চাইলে লেখাটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন, বা মন্তব্যের মাধ্যমে মতামত দিন। শিক্ষা নিয়ে যুক্তিসংগত আলোচনা সমাজের শক্তি হয়ে উঠুক।
আলোচনার সূত্রপাত
সম্প্রতি ৫ম শ্রেণির প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সরকার যখন কিন্ডারগার্টেন এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই পরীক্ষার আওতার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সমাজে নানা ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
কারও কাছে এটি শিশুদের জন্য ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ, আবার অনেকের দৃষ্টিতে এটি একটি স্পষ্ট বৈষম্য।
এই লেখায় আমি কোনো পক্ষকে ছোট করতে চাই না। বরং বলতে চাই, শিক্ষা যেন প্রতিযোগিতা নয়, অধিকার হয়ে থাকে।
কিন্ডারগার্টেনের উত্থান: বাস্তবতা না বোঝার ফাঁক
কারও কাছে এটি শিশুদের জন্য ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ, আবার অনেকের দৃষ্টিতে এটি একটি স্পষ্ট বৈষম্য।
এই লেখায় আমি কোনো পক্ষকে ছোট করতে চাই না। বরং বলতে চাই, শিক্ষা যেন প্রতিযোগিতা নয়, অধিকার হয়ে থাকে।
কিন্ডারগার্টেনের উত্থান: বাস্তবতা না বোঝার ফাঁক
বাংলাদেশে কিন্ডারগার্টেন ব্যবস্থার শুরু হয়েছিল ১৯৭০-এর দশকে, শহরের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর চাহিদা পূরণে। আজ তা ছড়িয়ে পড়েছে জেলা-উপজেলা ছাড়িয়ে গ্রাম পর্যন্ত।
বর্তমানে কিন্ডারগার্টেনে ১৫-২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। অনেক পরিবারই সীমিত আয়ের মধ্যেও সন্তানের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে চায়।
আমরা কেউ চাই না বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অহরহ গজিয়ে উঠুক। আমরা চাই—প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিশুর বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করুক।
বৃত্তি পরীক্ষা: উদ্দেশ্য যদি হয় মেধার স্বীকৃতি…
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত বৃত্তি পরীক্ষার লক্ষ্য—মেধাবীদের স্বীকৃতি প্রদান। কিন্তু বাছাই প্রক্রিয়া যখন বিদ্যালয়ের ধরনভেদে সীমিত করা হয়, তখন তার মৌলিক উদ্দেশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। একজন শিশু কোন প্রতিষ্ঠানে পড়ে—এটা নয়, সে কী জানে—এটাই বিবেচ্য হওয়া উচিত।
সবার জন্য সুযোগ নিশ্চিত না হলে, সেটা আর “জাতীয় বৃত্তি” থাকে না, হয়ে ওঠে “সীমিত সুযোগের প্রতিযোগিতা”।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, সমন্বয়
সবার জন্য সুযোগ নিশ্চিত না হলে, সেটা আর “জাতীয় বৃত্তি” থাকে না, হয়ে ওঠে “সীমিত সুযোগের প্রতিযোগিতা”।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, সমন্বয়
সরকারি এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। তারা দেশের শিক্ষা কাঠামোর দুইটি ভিন্ন ধারা মাত্র। তাদের লক্ষ্য একই—শিশুদের বিকশিত করা, শিক্ষিত করে তোলা। তবে এটাও সত্য, কিছু প্রতিষ্ঠান কেবল ব্যবসার মানসিকতা নিয়ে গড়ে উঠছে, যেখানে শিক্ষার চেয়ে আয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এটা যেমন ভুল, তেমনি সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অবিশ্বাস করাও অনুচিত।
শিক্ষায় সেবা থাকতে হবে—ব্যবসা থাকলেও তা যেন দায়িত্বের সাথে যুক্ত হয়।
অভিন্ন নীতিমালার দাবি
সরকার চাইলে বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোকে একটি রেজিস্ট্রেশন ও মান নির্ধারণ কাঠামোর মধ্যে আনতে পারে—
• পাঠ্যসূচি
• শিক্ষক নিয়োগ
• অবকাঠামো
• নিরাপত্তা
• মান নিয়ন্ত্রণ
এই প্রক্রিয়ায় সকল প্রতিষ্ঠান একই মানদণ্ডে পরিমাপযোগ্য হবে। এতে বেসরকারি ও সরকারি শিক্ষার মধ্যে যে আস্থার ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা দূর হবে।
সিদ্ধান্ত নয়, সমাধান চাই
বর্তমানে অনেকে এক সন্তানকে দুই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি রেখেছেন—সরকারি বৃত্তি পেতে এবং মানসম্মত পড়াশোনাও চালাতে।
কিন্তু সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দ্বৈত ভর্তি বাতিলযোগ্য। ফলে অভিভাবকেরা পড়েছেন অস্পষ্টতার মধ্যে।
এভাবে সংকট না বাড়িয়ে দরকার বাস্তবমুখী সমাধান, যেখানে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থই প্রাধান্য পাবে।
উপসংহার: ন্যায়ের পথে হোক শিক্ষা
শিক্ষা অধিকার—প্রতিযোগিতার হাতিয়ার নয়। একটি শিশুর বিদ্যালয় সরকারি না বেসরকারি, সেটি তার নিয়তির নির্ধারক হতে পারে না। তার মেধা, মনন ও সম্ভাবনাই হোক তার মূল্যায়নের মাপকাঠি।
আমি চাই, শিক্ষা ব্যবস্থায় যেন সবার জন্য সমান সুযোগ, স্বচ্ছ নীতিমালা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় থাকে।
সরকারের কাছে অনুরোধ, বৃত্তি পরীক্ষাকে সকল শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত করা হোক—যাতে কোন শিশু তার যোগ্যতার স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত না হয়।
লেখক: একজন অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী ও সচেতন নাগরিক
প্রকাশিত: জুলাই, ২০২৫
#শিশুঅধিকার #বৃত্তিপরীক্ষা #বাংলাদেশশিক্ষা #হাওয়াইমিঠাই
চাইলে লেখাটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন, বা মন্তব্যের মাধ্যমে মতামত দিন। শিক্ষা নিয়ে যুক্তিসংগত আলোচনা সমাজের শক্তি হয়ে উঠুক।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন